Header Ads

'পাশে আছি পুরুলিয়া'র উদ্যোগে মরণোত্তর চক্ষুদানে সামিল হচ্ছেন ৩২৫ জন মানুষ


'পাশে আছি পুরুলিয়া' একটি সামাজিক সংগঠন। পুরুলিয়া জেলার এমন কোনো মানুষ নেই যারা এই সংগঠনকে জানেন না। পুরুলিয়া জেলার মানুষের স্বার্থে তাঁরা অসাধারণ সব কাজ করে চলেছে। বর্তমানে পুরুলিয়াবাসীর কাছে এক ভরসাযোগ্য সংগঠন হয়ে উঠেছে 'পাশে আছি পুরুলিয়া।' 


আর্তপীড়িতদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, করোনায় রোগীদের বেডের জোগান দেওয়া থেকে অক্সিজেনের জোগান দেওয়া, পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য দান, বন্যা দুর্গত মানুষদের ত্রাণ বিতরণ, করোনা আবহে নানান দুর্নীতি ও কালোবাজারি রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রভৃতি অসংখ্য জনকল্যাণকর কাজের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে 'পাশে আছি পুরুলিয়া'।  

বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে এই সংগঠনের সম্পাদক ও সদস্যদের বহুবার হেনস্তা বা হুমকীর শিকারও হতে হয়েছে। কয়েকমাস আগে কলকাতা থেকে অক্সিজেন ও ফ্লোমিটার নিয়ে আসার সময় সংগঠনের সম্পাদক তুষার আওয়াস্তি ও তাঁর স্ত্রীকে রেলের টিটিআই এর হেনস্তার মুখে পড়তে হয়। মাঝে মধ্যে এই সংগঠনের সম্পাদক ও সদস্যদের লাইফ থ্রেটও দিয়ে থাকে কিছু অসাধু মানুষজন। এতোকিছুর পরও থেমে যায়নি সংগঠনের কর্মকাণ্ড। 
 
২০২০ সালের ২৭ শে জুন পথচলা শুরু হয়েছিল 'পাশে আছি পুরুলিয়া'র। চলতি বছরের ২৭ শে জুন এই সংগঠনের এক বছর পূর্ণ হবে। মাত্র এক বছরেই পুরুলিয়ার মানুষের হৃদয় ছিনিয়ে নিয়েছে এই সংগঠন। আগামী ২৭ শে জুন 'পাশে আছি পুরুলিয়া'র প্রতিষ্ঠা দিবসে তাঁরা আয়োজন করছে একটি মরণোত্তর চক্ষুদান শিবিরের। যেখানে আপাতত ৩২৫ জন মানুষ চক্ষুদান করতে চলেছেন। সংখ্যাটা হয়তো আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংগঠনের সম্পাদক ও সদস্যরা। তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়াতে আরো বেশি সংখ্যক মানুষদের এদিন এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।  

জলদান, রক্তদানের মতো চক্ষুদানও শ্রেষ্ঠ দান। পৃথিবীতে বহু মানুষ আছেন যারা ছোটোবেলা থেকেই দেখতে পান না। বহু মানুষ দুর্ঘটনাও চক্ষু হারিয়েছেন। আমরা যদি মরণোত্তর চক্ষুদান করি তাহলে আমাদের মৃত্যুর পর সেই চোখের মাধ্যমে তারা এক নতুন জীবন ফিরে পাবেন। তাই মরণোত্তর চক্ষুদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 'পাশে আছি পুরুলিয়া'র মরণোত্তর চক্ষুদান শিবির সত্যিই এক সর্ববৃহৎ মানবিক উদ্যোগ। এতো বড়ো মাপের মরণোত্তর চক্ষুদান সচরাচর দেখা যায় না। 

প্রতিবেদন- সুমিত দে


No comments