Header Ads

পরিবেশ বাঁচাতে মেদিনীপুর শহর থেকে জঙ্গলমহল পদযাত্রা গ্রীন ওয়াকের



মেদিনীপুর: পৃথিবীর বিভিন্ন সমস্যার সাথে সাথে যদি আমাদের রাজ্যের সমস্যাগুলিকে এক সূত্রে বাঁধা যায় বা কীভাবে আমাদের সব শহরগুলিকে যৌথ শহর হিসেবে কল্পনা করা যায় এরকম একটি ভাবনা থেকেই গ্রীন ওয়াকের যাত্রা শুরু হয়। এই উদ্দেশ্যেই ২০১৮ সালের ১৯ এ ফেব্রুয়ারী থেকে ২৫ শে মার্চ দার্জিলিং এর টাইগার হিল থেকে দক্ষিণবঙ্গের সাগরদ্বীপ পর্যন্ত হাজার কিলোমিটার পদযাত্রা করেন গ্রীন ওয়াকের পরিবেশ কর্মীগণ। ওনাদের এই পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন সঞ্জিত কাষ্ঠ, সুমি সিকদার, কল্লোল রায়, রাহুলদেব বিশ্বাস, সুকল্যাণ ঘোষের মতো পরিবেশ কর্মীরা। 



এই দীর্ঘ পদযাত্রার সময় ওনারা বিভিন্ন বিদ্যালয়,পঞ্চায়েত অফিস, বিডিও অফিসের কর্মী, সাধারণ মানুষদের সাথে পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যার কথা আলোচনা করেন ও পরিবেশ সচেতনতার কাজটিও চালিয়ে যান। পরিবেশ কর্মী রাহুলদেব বিশ্বাস বলেন-বর্তমানে বিশ্ব উষ্ণায়ন এক অন্যতম সমস্যা। এইভাবে চলতে থাকলে স্টিফেন হকিন্সের ভবিষ্যতবানী অনুযায়ী পৃথিবী হয়তো আর একশো বছর টিকবে। তাই আমরা চিন্তিত। পরিবেশের এই সমস্যাগুলি থেকে আমাদের বাঁচাতে আমাদের সকলকে একসাথে লড়তে হবে। আমরা এই পদযাত্রায় মানুষের কাছ থেকে খুব ভালো উৎসাহ পেয়েছি ও পথেঘাটে মানুষের উদ্দীপণা দেখেছি। মানুষ পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমাদের সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলোচনা করেছেন। আমাদের সাথে পা মিলিয়েছেন। অনেক সময় এরকম হয়েছে যে স্কুলেই সাথে সাথে একটি করে পরিবেশ রক্ষার দল তৈরি হয়ে গেছে।

ওনারা একইভাবে পাহাড় বাঁচানোর জন্য তারপর বাংলার খালবিল বাঁচানোর জন্যও একই ধরণের পদযাত্রা করেছেন। পরিবেশ কর্মী কল্লোল রায়ের মতে- বর্তমানে পরিবেশকে অস্বীকার করে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। আপনি যদি পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন তাহলে আপনি উন্নয়ন বিরোধী ঠিক। এই সময়ে দাঁড়িয়ে সব মানুষকে একসাথে পরিবেশের জন্য কাজ করতে হবে।সকলে যদি ভাবতে পারে যশোহর রোডের গাছ আমারই গাছ, শান্তিপুরের আমবাগান আমারই বাগান, আমাজনের জঙ্গল আমারই জঙ্গল তাহলে পরিবেশ বাঁচানো অনেক সহজতর হতো। পরিবেশের কিন্তু সীমারেখা হয়না। সব জায়গার পরিবেশ রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। বর্তমানে দার্জিলিং এ অনেক কংক্রিটের জঙ্গল গড়ে উঠেছে পরিবেশকে অস্বীকার করে। এই সব এলাকা হল ধসপ্রবণ এলাকা এখানে সাসটেইনেবেল ডেভেলাপমেন্ট হওয়া প্রয়োজন। এখানে বাঁশের বাড়ি হওয়া প্রয়োজন কারণ ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে বাঁশের বাড়ি সহজে ভাঙেনা, এতে মানুষের মৃত্যু কম হতে পারে নেপালের ভূমিকম্পের প্রাণহানি প্রকৃতিকে অস্বীকার করে ঘর বাড়ি গড়ে তোলার এক জ্বলন্ত উদাহরণ

যশোহর রোডে ৫৩ কিমি গাছ বাঁচাও নিয়ে পদযাত্রায় গ্রীন ওয়াক মানুষের অত্যন্ত উৎসাহ দেখেন তাই ওনারা সারা রাজ্য জুড়েই এটি করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় জলের স্তর নীচে নেমে যাওয়া, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাঁই থেকে দূষণ, নদী নালা মজে যাওয়া, পাথর ভাঙার কাজে লিপ্ত কর্মীদের কোন রকম মুখোশ না পরে কাজ করা এরকম বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মানুষ জেরবার, এসব কথা মানুষের থেকে উঠে এসেছে। এই পদযাত্রা সাথে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ডেপুটেশেন দেওয়ার মতো কাজগুলিও করে গেছেন গ্রীন ওয়াকের সাথে যুক্ত পরিবেশকর্মীরা।

ঠিক এরকমই আগামী ২২ শে ডিসেম্বর ও ২৩ শে ডিসেম্বর মেদিনীপুর শহর থেকে লালগড় ও ঝিটকার জঙ্গলের মতো জায়গা গুলিতে পদযাত্রার সূচনা হতে চলেছে। সকলের আশা এই যাত্রাতেও একইভাবে মানুষ এগিয়ে আসবে। আমাদের সকলের প্রার্থনা গ্রীন ওয়াক এগিয়ে চলুক। এর সাথে মানুষ জুড়ুক, বেঁচে উঠুক আমাদের পরিবেশ।

প্রতিবেদন-অমিত দে
[সহায়তায়-রাহুলদেব বিশ্বাস]

No comments