Header Ads

ভারতের সেরা নাগরিক সম্মান পেলেন বঙ্গসন্তান ডা. সন্দীপক রায়


ধর্মনগর, ত্রিপুরা: পাঁচ বছরে দশ হাজার চোখের অপারেশন বিনা পয়সায় করে ও নিজের আবিষ্কৃত চোখের সার্জারির পদ্ধতির জন্য এই সম্মান পেলেন ত্রিপুরার ধর্মনগরের বাসিন্দা ডা. সন্দীপক রায়। তিনি জন্ম থেকেই দেখেছেন ত্রিপুরার চিকিৎসা ব্যবস্থার দুরাবস্থা এ কারণে তিনি উত্তর ত্রিপুরা জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থার ভার তুলে নেন। তিনি ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেন এম বি বি এস এবং এম এস অপথালমোলজি বিভাগে।

তিনি চোখের যে রোগগুলো একটু সচেতন  হলেই  এড়িয়ে  চলা  যায়, সেসব   রোগের  সচেতনতার চেষ্টা  করেন  ।     ডিস্ট্রিক্ট     ব্লাইন্ডনেস কন্ট্রোল  প্রোগ্রাম বা ডি বি সি পির মাধ্যমে  তিনি  নিজে উদ্যোগ নিয়ে উত্তর ত্রিপুরা  জেলাকে ক্যাটারেক্ট ব্যাকলগ   ফ্রি    ডিস্ট্রিক্টে পরিণত করেন।    তিনি  এ  কাজটি  করার জন্য    একটি    নতুন     চিকিৎসা পদ্ধতির  নক্সা  তৈরি  করেন।  এই নক্সাটিকে ২০১৭ খ্রীস্টাব্দে ইন্দৌরে অনুষ্ঠীত   চতুর্থ   ন্যাশানাল  সামিট অন গুড রেপ্লিকেবেল প্রেক্টিসেস এন্ড ইনোভেসেনস ইন  পাবলিক হেলথ কেয়ার সিস্টেমে ভারত সরকার দ্বারা প্রশংসিত হয়।

তিনি প্রথমে এম পি ডবলু , এ এস এইচ এ এবং অঙ্গনওয়াডি কর্মীদের প্রশীক্ষণ দেন এবং তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে চোখের জন্য সচেতনতার বার্তা দিতে চেষ্টা করেন এবং তিনি তাদের বিনা পয়সায় সার্জারি ও অপারেশনের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু এ কাজটা করার সময় ত্রিপুরাতে ছিলনা কোন যন্ত্রপাতি এবং পরিকাঠামো। তিনি ত্রিপুরার স্টেট প্রোগ্রাম অফিসার ডা. প্রণবেন্দু বর্মনের কাছ থেকে পরিকাঠামো এবং যন্ত্রপাতির ব্যাপারে অনেক সাহায্য পান। তাছাড়াও ওনার এ কাজে সাহায্য করেন ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ড. সন্দীপ মাহাত্মে ও উত্তর ত্রিপুরার চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা. শঙ্কর দাশ।

এছাড়াও তিনি পেয়েছেন ভারত জ্যোতি অ্যাওয়ার্ড। ওনার গবেষণাপত্র ওসাকন ২০১০ এ সেরা গবেষণাপত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১১ তে ভূবনেশ্বরে তিনি ইয়ংগেস্ট প্রেজেন্টার হিসেবে ঘোষিত হন ইন্ডিয়ান ক্যানসার কংগ্রেসে। তিনি ১১ টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন দেশ বিদেশের বিখ্যাত জার্নালগুলিতে।
ডা. সন্দীপক রায় সেবা সৌর্য সংস্থান নামে একটি এনজিও চালিয়ে থাকেন। ২০১১ খ্রীস্টাব্দে দুজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্রী শ্যামগোপাল অধিকারী এবং শ্রী সিতেন্দ্র কুমার রায় মিলে এই এন জি ওটি তৈরি করেছেন। দরিদ্র মানুষ যারা অর্থের অভাবে চোখের অপারেশন করাতে পারেননা তাদের বিনা পয়সায় অপারেশনের ব্যবস্থা করে থাকে এই এন জি ও। এই সংস্থার উদ্দেশ্য হল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মাধ্যমে সমাজকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করে তোলা। ডা. সন্দীপক রায় মনে করেন যে বাঙালির উন্নতি করতে হলে বাঙালিকে এন্ট্রপ্রিনর হওয়ার মানসিকতায় উন্নীত হতে হবে। এছাড়াও তিনি বাঙালির হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছেন। আমাদের প্রার্থনা বাঙালির ঘরে ঘরে জন্ম নিক ডা. সন্দীপক রায়ের মতো মানুষ।

প্রতিবেদন- অমিত দে



No comments