Header Ads

দার্জিলিং চায়ের বিশ্বজোড়া খ্যাতি নিয়ে এলো বাংলার ঘরে জিআই স্বীকৃতি


বাঙালির প্রতিটা দিনের শুরু হয় এক কাপ চায়ে চুমুক দেওয়ার মাধ্যমে। গরম চায়ে প্রথম চুমুক দেওয়ার আনন্দই আলাদা। আর বাঙালির কাছে পছন্দের চা মানেই দার্জিলিং টি। স্বাদে ও গন্ধে দার্জিলিং টির জুড়ি মেলা ভার। এমন চায়ের অতল স্পর্শে মন ভরে যায়। শুধু বাঙালির কাছেই এই চা পছন্দের নয়। গোটা ভারতবর্ষের মানুষ পছন্দ করেন এই চা। ভারত ছাড়িয়ে বর্তমানে বিশ্বের অসংখ্য দেশে আমদানি করা হয় দার্জিলিং টি। 


ভারতে সবচেয়ে বেশি চা চাষ হয় আসামে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং এর চা খেতে অনেক বেশি সুস্বাদু। তাই আসামের চা অতোটা বিখ্যাত নয় যতটা দার্জিলিং চা বিখ্যাত। পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের যা আয় হয় তার অনেকটা ইনকাম আসে চা চাষের মাধ্যমে। দার্জিলিং চায়ের জগতজোড়া খ্যাতির কারণে চা চাষে দার্জিলিং জেলা বিশেষ গুরুত্ব পায়। 

এবার দার্জিলিং চা পেল জিআই স্বীকৃতি। ২০১৭ সালে রাজ্য টি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে জিআই স্বীকৃতির জন্য একটি চিঠি পাঠানো হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে দার্জিলিং চাকে দেওয়া হলো জিআই ট্যাগ। রাজ্যবাসীর কাছে এটি একটি অত্যন্ত আনন্দের খবর। রসগোল্লার পর দার্জিলিং টি এভাবেই ধীরে ধীরে বেশ কিছু রাজ্যের নিজস্ব প্রোডাক্ট জিআই অর্জন করে চলেছে। 

জিআই হলো জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন। এটি একটি সাক্ষর বিশেষ। কোনো প্রোডাক্টের সঠিক ভৌগোলিক মর্যাদা দিতে ব্যবহার করা হয় এই সাক্ষর। একটি প্রোডাক্ট যে অঞ্চলে প্রথম উৎপাদিত হয়৷ সেই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশে জিআই বিশেষ সহায়তা করে ৷   

নকশি কাঁথা, মাদুরকাঠি, শান্তিনিকেতন লেদার গুডস্, লক্ষণ ভোগ আম, হিমসাগর আম, মালদার ফজলি আম, শান্তিপুর শাড়ি, ধনিয়াখালি শাড়ি, বালুচরি শাড়ি, জয়নগরের মোয়া, বর্ধমানের সীতাভোগ, বর্ধমানের মিহিদানা,  তুলাইপঞ্জি চাল, গোবিন্দভোগ চাল প্রভৃতি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের সম্পদ হিসেবে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। আর এবার রসগোল্লা ও দার্জিলিং চা৷ এগুলো বাদেও পশ্চিমবঙ্গে জিআই স্বীকৃতিকরণের মতো অজস্র সম্পদ বাংলাতে রয়েছে। তাই রাজ্য সরকারকে জিআই এর ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। 

একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে যে জিআই স্বীকৃতির জন্য গুণগত মান উন্নত করা হবে দার্জিলিং চায়ের। উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যাতেও জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ টি বোর্ড দফতর। আগামীদিনে দার্জিলিং চায়ের জন্য রঙিন দিন আসতে চলেছে রাজ্যের চা ব্যবসায়ীদের জন্য। সামনেই জাঁকিয়ে শীত আসতে চলেছে। তাই আসন্ন শীতে জমিয়ে উপভোগ করুন দার্জিলিং চা।            
প্রতিবেদন- সুমিত দে

No comments