ইন্ডাস্ট্রির কনিষ্ঠ ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার আত্রেয়ী রায়ের ক্রিয়েটিভ জাদুতে মুগ্ধ ক্রিয়েটিভ প্রেমিরা। মুখোমুখি আলাপচারিতায় নানা গল্প।

ইন্ডাস্ট্রির সর্বকনিষ্ঠ ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার আত্রেয়ী রায়। তার জীবনের নানা গল্প এবং কাজ নিয়ে আমরা একটি খোলামেলা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। তারই একঝলক তুলে ধরলাম আপনাদের জন্য।


লিটারেসি প্যারাডাইস- ইন্ডাস্ট্রির সর্বকনিষ্ঠ ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার হিসেবে আপনার কীরকম লাগছে?  

আত্রেয়ী রায়- ভালো লাগছে। সাহেব দা, সুরজিৎ দার হাত ধরে নতুন কাজ করছি। সাহেব দা ও সুরজিৎ দার সাথে কাজ করে খুবই ভালো লাগছে। অনেক কিছু শিখতে পারছি। আর অনেক সাপোর্ট করে অনেক। আমার যেখানে ভুল হয় সেখানে ধরিয়ে দেয়। খুব হেল্প করে। নিজের দাদার মতো হেল্প করে।    
   
লিটারেসি প্যারাডাইস- বর্তমান প্রজেক্টগুলো নিয়ে কাজ করতে আপনার কেমন লাগছে?  

আত্রেয়ী রায়- বর্তমান প্রজেক্টগুলো নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগছে। ভীষণ এক্সাইটেড। এর আগে এরকম ভাবে মুভির পোস্টারে আমি কাজ করিনি। এর আগে আমি ছোটোখাটো গ্রাফিক্স ডিজাইন করতাম। তো এখন বর্তমানে কাজ করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। কাজ করে অনেক কিছু শিখতে পারছি প্রথম কথা হলো এটাই। কাজ করতে পারছি তার সাথে সাথে শিখতে পারছি।
    
ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার আত্রেয়ী রায়ের নতুন প্রজেক্ট
         
লিটারেসি প্যারাডাইস- গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে আপনার মধ্যে কী কোনো নতুন ভাবনা রয়েছে?   
  
আত্রেয়ী রায়- গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে ভাবনা বলতে কলকাতাতে প্রচুর গ্রাফিক্স ডিজাইনার রয়েছে। কিন্তু এই পর্যন্ত মানে কলকাতাতে টাইপোগ্রাফি বলতে যেটা বেঙ্গলী টাইপোগ্রাফি নিয়ে, আমি দেখেছি কলকাতার থেকেও বাংলাদেশে টাইপোগ্রাফি নিয়ে ভালো কাজ হয়। তো ইচ্ছে আছে কলকাতাতে টাইপোগ্রাফির ওপরে আরো ভালো ভালো কাজ করতে। মানে যে কাজটা আমি বাইরে দেখতে পাচ্ছি। যাতে সেই কাজটা আমাদের কলকাতা থেকেই হয়। আর একটা বাজে ধারণা আছে যে কলকাতা থেকে নাকি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ ভালো হয়না। বাইরে ভালো হয়। আমি চাই যে ঐ প্ল্যাটফর্মটা কলকাতা থেকেও যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখছেন তারাও সে প্ল্যাটফর্মটা পাক। আমরা যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন করছি যেন সেই জায়গাটা ক্রিয়েট করতে পারি কলকাতাতে।     
        
লিটারেসি প্যারাডাইস- আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আত্রেয়ী রায়- আমি তো এখন গ্রাফিক্স ডিজাইন করছি ৷ রিসেন্টলি আমি অ্যানিমেট্রিক্স মাল্টিমিডিয়া মানে যেটা অ্যাসোসিয়েটস উইথ জি বাংলা ওখানে আমি একজন ভিডিও এডিটর হিসেবেও কাজ করছি৷ ভবিষ্যতে ইচ্ছে আছে এখন যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইন করছি বা পোস্টার ডিজাইন করছি এগুলো তো করবোই তার সাথে সাথে ইচ্ছে একটু শর্টফিল্ম এরকম কিছু করার। এমনকি কলেজে থাকার সময় কতগুলো শর্টফিল্ম কটা করেও ছিলাম কিন্তু সেগুলো আমি সেরকম জায়গায় নিয়ে যেতে পারিনি। আমার ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে সেগুলোকে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া৷ 

ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার আত্রেয়ী রায়ের নতুন প্রজেক্ট
     
                           
লিটারেসি প্যারাডাইস- আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার পিছনের গল্পটা কী?   

আত্রেয়ী রায়- আমি ছোটোবেলা থেকেই আঁকা শিখেছি। সেটা বলতে গেলে অনেক কিছু আছে। বলতে গেলে এর পিছনে আমার মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। মা জোর করেই সব শিখিয়েছে। গান হতে আঁকা হতে সবকিছু। সেই জন্য পাড়াতে প্রচুর কম্পিটিশনে যেতাম, প্রাইজও পেতাম। তারপর বড়ো হয়ে আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফটের ওপর জোর করেছিল। স্কুল বলুন বা কলেজ সব জায়গাতেই নিজের আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফট করতাম আর সবাইকে গিফটও করতাম। সেটা সবকিছুতেই হতে পারে আড্ডা বলুন বা যেকোনো কিছুই। এছাড়াও নিজের কোনো কিছু ড্র। এরকম হতে হতেই ইন্টারেস্ট জাগলো। তারপর আমি ক্লাস ইলেভেনে টিউশনে জয়েন করেছিলাম। সেখানে আমি টুডি এবং থ্রিডি অ্যানিমেশন তার সাথে ফোটোশপ শিখেছিলাম। তারপর ক্লাস টুয়েলভের পরে আমি গ্র্যাজুয়েট করি বি.এস.সি অ্যান্ড মিডিয়া সায়েন্স ফিউচার মিডিয়া স্কুল থেকে। যেটা ফিউচার ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কলেজের আন্ডারে পড়ে। সেখানে আমি মিডিয়া সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েট করি। সেটা চলাকালীনই নানা প্রজেক্টে কাজ করতে থাকি। নিজের হোক বা অন্যের বা ইন্টার্নশিপ করি। এইসব করতে করতেই স্কিলটা বেড়ে যায় আমার ৷ 

লিটারেসি প্যারাডাইস- সম্প্রতি আপনার ঘুড়িগাছ ও মালাবদল ছবির টিজার পোস্টার বহু প্রশংসা কুড়িয়েছে। আপনার প্রতিটি টাইপোগ্রাফি ছবির কথা বলে। এর পিছনে কী গল্প নিয়ে আগে থেকে কোনো রিসার্চ থাকে?

আত্রেয়ী রায়- আমার মূলত যেটা জানার থাকে সেটা ছবির গল্প বা সিনোপসিসটা জানতে হয়। ছবির সম্বন্ধে বা ছবিটার সম্বন্ধে কী বলা হয়েছে তা না জানলে তো টাইপোগ্রাফির কথা মাথায় আসবে না। ভাবনা তো এভাবে আসেনা ৷ স্টোরিটা জেনে নিলে পরে আমাদের টাইপোগ্রাফিটা ভাবতে সুবিধা হয়।        


লিটারেসি প্যারাডাইস- আপনি তো শুধুমাত্র একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার নয়। আপনি ভিডিও এডিটিং নিয়েও কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে ভিডিও এডিটিং এর উপরে নিজের কোনো কাজ করার ইচ্ছা আছে?

আত্রেয়ী রায়- আমি তো একজন ভিডিও এডিটিং আর্টিস্ট। ভিডিও এডিটিং নিয়ে তো শর্টফিল্ম বা সিনেমাটোগ্রাফি করার ইচ্ছে সেটা তো রয়েইছে। এমনকি আমি ভিডিও এডিটিং নিয়ে কাজও তো করছি৷ যেটা একটু আগে আমি বললাম যে অ্যানিমেট্রিক্স মাল্টিমিডিয়াতে ভিডিও এডিটিং এর কাজ করছি ৷ 

ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার আত্রেয়ী রায়
 
 
লিটারেসি প্যারাডাইস- ছবি তৈরির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আপনি প্রতিটি ছবির সাথে যুক্ত থাকেন। পরবর্তী সময়ে কি ছবির পরিচালক হিসাবে কাজ করার কোনো প্ল্যান আছে?

আত্রেয়ী রায়- ছবি পরিচালনার বিষয়ে আমি কোনো প্ল্যান করিনি ৷ কলেজে নিজের ছোটোখাটো প্রজেক্ট হিসেবে শর্টফিল্মে কাজ করেছিলাম। তবে পরিচালক হিসেবে কাজ পাওয়ার দায়িত্ব এখনও পেয়ে উঠিনি। এদের সাথে কাজ করছি পোস্ট প্রোডাকশন এনপ্লয়েড হিসেবে। পোস্টার ডিজাইন নিয়ে কাজ করি। এভাবেই আমি সেটা শিখছি। এখনও পর্যন্ত প্ল্যান করিনি যে ছবি পরিচালনা নিয়ে কাজ করবো কী করবো না। তারপরে গ্রাফিক্স ডিজাইন, এডিটিং এগুলো নিয়েই বেশি থাকার ইচ্ছে রয়েছে। যেটা বললাম যে আমি শর্টফিল্ম করবো। পরবর্তীকালে হয়তো সেক্ষেত্রে পরিচালকের ভূমিকা কখনো নিতে হতে পারে। হয়তো কোনো স্টোরি আইডিয়া দিলাম, অন্য কোনো পরিচালকও থাকতে পারেন।

সৌজন্যে-সুমিত দে

No comments