তামিল ডাক্তার মদন মোহন রাজের রবীন্দ্রপ্রেম সকল বাঙালিকে মুগ্ধ করে

বাংলা ভাষা যার আবেগের সাথে আজও মিশে আছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যার লেখা কবিতা ও গান মুগ্ধ করে বিশ্বের সকল জাতিকে। রবীন্দ্রনাথের পরিচয় তিনি স্রষ্টা। খাতার সাথে কলমের যুদ্ধ বাঁধিয়ে কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাস ও গান লিখে তিনি আজও অমর এ ভুবনে।  

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সঠিকভাবে জানতে হলে সকলকেই প্রথমে শিখতে হয় বাংলা ভাষা। তাই বাংলা ভাষা প্রসারের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। মাতৃভাষাতেও যে সাহিত্য বা গান সৃষ্টি করে বিশ্ববিখ্যাত হওয়া যায় তা একদিন গোটা বিশ্বকে তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন ৷ 



আজকে ভারতবর্ষে সূদুর কন্যাকুমারী থেকে আসমুদ্র হিমাচল প্রত্যেক প্রান্তের মানুষ বিশ্বকবিকে নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর আদর্শ ও চেতনা অনেকাংশে অনুপ্রাণিত করছে এ প্রজন্মের প্রকৃত শিক্ষিত মানুষদের। বিশ্বকবির অনুপ্রেরণায় মুগ্ধ হয়ে তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন নিবাসী মদন মোহন রাজ পা রাখেন কলকাতা শহরে। তিনি পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যাকে আপাদমস্তক ধারণ করে নিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সঠিকভাবে জানার বাসনায় তিনি আয়ত্ত করেছেন বাংলা ভাষা। রবীন্দ্র কবিতা পড়ে তিনি সহজেই বুঝতে পারেন কবিতার ভাষা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বিখ্যাত কবিতা "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য" কবিতাটি গানে রূপান্তরিত করেছেন তিনি। ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে রচিত "গীতাঞ্জলি" কাব্যগ্রন্থের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলোর মধ্যে "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য" এক ও অদ্বিতীয়। যে কবিতায় বিশ্বকবি বর্ননা করেছেন তাঁর চোখে দর্শন করা নতুন উন্মুক্ত জাগরিত ভারতবর্ষকে।

মদন মোহন রাজের অসাধারণ সুরে নতুন রূপ পেয়েছে "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য"। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানটির সুরারোপ করে যেতে পারেননি তাঁর জীবদ্দশায় । তিনি আজ বেঁচে থাকলে হয়তো মদন মোহন রাজের এমন কাজ দেখে বিশেষভাবে মুগ্ধ হতেন।  

 
"চিত্ত যেথা ভয়শূন্য" এ কবিতাটা থেকে যে একটা চমৎকার গান তৈরি হতে পারে আমরা বাঙালিরা হয়তো চিন্তা করিনি ৷ কিন্তু মদন মোহন রাজ তিনি বাঙালি না হয়েও বাংলা গানকে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন। তামিল জাতীয়তাবাদের রক্ত তার শরীরে বইলেও বাংলা ভাষাকে তিনি মনেপ্রাণে ধারণ করে যথেষ্ট সম্মান পদার্পণ করেছেন। 

একটা আকর্ষণীয় গল্পের জালবুনন করে নতুন সুরের মিশেলে নির্মিত হয়েছে গানটি। গানের সুর থেকে শুরু করে গানের চিত্রায়ণ, গল্পের ভাবনা নির্ধারণ, প্রযোজনা, অভিনয় ও গান গাওয়া সবটাই তিনি নিজে করেছেন। কলকাতার বুকে কোনো স্পনশর বা মানুষের সাহায্য ছাড়াই এ গান নির্মাণ করা ছিল একটা কঠিনতর কাজ। তবুও তার মনের জোর ও ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি প্রচন্ড সাহসিকতার সাথে এ কাজ করে দেখিয়েছেন। 

"চিত্ত যেথা ভয়শূন্য" তার বাংলা ভাষায় দ্বিতীয় গানের ভিডিও। এর আগে ''উপহার'' নামে একটি গানের ভিডিও বানিয়েছিলেন।

মদন মোহন রাজের স্বপ্ন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বেশকিছু বিখ্যাত কবিতা যা থেকে তৈরি হতে পারে ভালো গান ৷ সেইসব কবিতাকে গানে রূপান্তরিত করে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্মান বেশি করে বিশ্বজুড়ে প্রচার করতে চান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাশাপাশি তিনি নজরুল ইসলামের কবিতা নিয়েও কাজ শুরু করতে চলেছেন। বাংলা গান বাদেও তিনি নিজের মাতৃভাষা অর্থাৎ তামিলে মুক্তি দিয়েছেন দুটো সঙ্গীত অ্যালবামের। যে অ্যালবাম দুটোর গানের কথা, সুর ও কণ্ঠ তাঁর সম্পূর্ণ নিজের। তামিল খ্রিস্টান সঙ্গীতের ওপর বানানো হয়েছে এই দুটো অ্যালবাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা নজরুলের গান ছাড়াও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গানও তার বেশ পছন্দের। এছাড়াও বিখ্যাত তামিল সংগীত শিল্পী এস.পি.বালসুব্রামানিয়াম, ইলাইয়ারাজাও তার বেশ পছন্দের। এ.আর.রহমানের গানও তার ভালো লাগে। 




তিনি পড়াশুনো করেছেন কলকাতায়। লন্ডনের ট্রিনিটি কলেজে মিউজিক বিভাগে ডিস্টিংশন অর্জন করেন। বাংলা টলিউড ইন্ডাস্ট্রির সাথেও তার কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে। টলিউড ইন্ডাস্ট্রি যদি তাকে ভালো সুযোগ দেয় তাহলে বাংলা গান নিয়ে তিনি আরো ভালো কাজ করতে চান। তিনি তামিল ও বাংলা গানের প্রসারের জন্য যেভাবে নিজেকে উজাড় করেছেন তাতে একদিন সফলতার শিখরে তিনি পৌঁছে যাবেন। ভেলগা তামিল। জয় বাংলা। 



প্রতিবেদন-সুমিত দে

No comments