আন্দামান সেলুলার জেলে ৫৮৫ জন বন্দির মধ্যে ৩৯৮ জন ছিল বাংলার


বর্তমান ভারতবর্ষে তুলসি পাতার সাথে মধুর মতো করে দীনদয়াল উপাধ্যায়, সাভারকারের সাথে রাষ্ট্রপ্রেম মিশিয়ে গেলানো হচ্ছে। ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাঙালির রক্ত ঝরানো ঐতিহাসিক সত্যকে। কালাপানির দেশ আন্দামানের সেল্যুলার জেলের প্রতিটা কোনায় বাঙালির রক্ত লেগে আছে। সে দাগ যতই মোছার চেষ্টা হোক, স্বাধীনতায় বাঙালির অবদানের ইতিহাস ভোলানো হোক, যতই সেল্যুলার জেলের নাম ব্রিটিশকে মুচেলেকা দেওয়া 'কাপুরুষ' সাভারকারের নামে করা হোক। সবাই জানে জেলের অধিকাংশই ছিল বাঙালি। জেলের দেওয়ালে খোদাই করা নামফলক জুড়ে 'বীর' বাঙালিদের নাম। লজ্জার কথা বিমানবন্দরের নামও সাভারকারের নামে নামাঙ্কিত। গোটা ভারতে আজ স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন করে 'হিন্দুত্ববাদ' মিশিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। ব্রিটিশের পা চাটা লোকজন আজ রাষ্ট্রপ্রেমের সার্টিফিকেট বিলি করছে। তাদের ঘরানার দু-একজনকে সবার সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।



যতই এদের মহীরুহ বানানোর চেষ্টা হোক, যতই প্রচারের আলোয় জ্বলজ্বল করুক দীনদয়াল, সাভারকারদের ছবি। বাঙালি ভুলবে না সূর্য সেন দের। এটা সবাই জানে বাঙালির রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছে ভারত। ঘুমের মাঝে ব্রিটিশরা হয়ত আজও বাঙালি বিপ্লবীদের নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে। চিত্তরঞ্জন দাস, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিনয়-বাদল-দীনেশ, গোপীনাথ সাহা , বীরেন্দ্রনাথ দত্তগুপ্ত , প্রদ্যুত ভট্টাচার্য, কানাইলাল ভট্টাচার্য, বিমল দাসগুপ্ত, রাজেন লাহিড়ী , দীনেশ চন্দ্র মজুমদার, ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য, বাঘাযতীন, সূর্য সেন, মাতঙ্গিনী হাজরা , ক্ষুদিরাম, গণেশ ঘোষ, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত, উল্লাসকর দত্ত, প্রফুল্ল চাকী , কানাইলাল দত্ত , সত্যেন্দ্রনাথ বসু, যতীন দাস , বটুকেশ্বর দত্ত, বসন্ত বিশ্বাস , রাসবিহারী বোস..... নামের তালিকা শেষ হবে না। এই নামগুলো বাঙালির বুকের ভেতর থাকবে।



ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, মুছে দেওয়া হচ্ছে অনেক ইতিহাস। কিন্তু সূর্য সেনদের বাঙালির আকাশে সূর্যের মতো তুলে ধরতে হবে। তেনাদের আলোয় নিজেদের আলোকিত করতে হবে, জাতির নায়কদের স্মরণ করে বাঙালির অধিকার আদায়ে ঝাঁপাতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে প্রতিটা বাঙালি বিপ্লবীর আত্মবলিদানের কাহিনী তুলে ধরতে হবে। যতই আক্রমণ আসুক, 'বীর' বাঙালিদের ভুললে তো চলবেই না, তাদের দীক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি হিসাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জাতীয় কর্তব্য। জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে তার মোকাবিলা করা দরকার। এ রাষ্ট্রে বাঙালি সম্মান নিয়ে বাঁচবে, দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে না। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদকে বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, বাঙালি বীরের জাতি। বাঙালির নায়ক চিত্তরঞ্জন-সুভাষচন্দ্র-সূর্যসেনরা, 'কাপুরুষ' সাভারকাররা বাঙালির কাছে সর্বদা 'কাপুরুষ'ই থাকবে।

কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকার করেছে ১৯০৯ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে আন্দামান সেলুলার জেলে ৫৮৫ জন বন্দির মধ্যে ৩৯৮ জন ছিল বাংলার। বুঝতে পেরেছেন কোন জাতি দেশকে স্বাধীন করেছিল!




No comments