Header Ads

৯৮ বসন্ত পেরিয়ে প্রাক শতবর্ষে পদার্পণ নৈহাটির বড়মার


দশমীতে উমা কৈলাশে ফেরার কয়েকদিন পর বাঙালির আরেক মা শ্যামার আগমন হয়। দুর্গাপুজোর মতো শ্যামাপুজো বা কালীপুজোও বাঙালির বড় উৎসব। আর কালীপুজো এলেই যার কথা সবার স্মরণে আসে তা হলো  নৈহাটির বড়মা৷ নৈহাটির কালীপুজো মানেই বড়মা। যাকে দর্শন করতে বাংলার নানান প্রান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসেন। এর একটাই কারণ হলো প্রতিমার বিশাল উচ্চতা৷ এতো বড়োমাপের কালী প্রতিমা বাংলাতে খুব কম পুজোতেই দেখা যায়।


নৈহাটিতে অসংখ্য কালীপুজো হলেও বড়মার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর প্রায় ৬০ হাজার মানুষের  জনসমাগম ঘটে এই পুজোতে। এখানকার প্রতিমার উচ্চতা ২২ ফুট। যা দেখলে রীতিমতো থমকে যেতে হয়। বড়মার রূপ অনেকটা শ্মশান কালীর মতো৷ কৃষ্ণবর্ণ শরীরের এই কালী মূর্তির প্রতিমা মুগ্ধ করে আট থেকে আশি।

নৈহাটির বড়মার পুজোর বিশেষত্ব হলো এই পুজোতে কোনো চাঁদা নেওয়া হয়না। পুজোর খরচ সবটাই আসে রাজ্যের বিভিন্ন মানুষের প্রণামী বাক্সে দান করা অর্থ থেকে। প্রথা মেনে লক্ষ্মীপুজোর দিন এই কালী মূর্তি তৈরি আরম্ভ হয়৷ মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে গড়ে ওঠে এই বিশালাকার মাতৃমূর্তি। ১২ কেজি সোনার গয়না ও ২০০ কেজি রূপোর গয়না সাজিয়ে তোলা হয় কালী ঠাকুরকে।

ইতিহাসের দলিল থেকে জানা যায়, আজ থেকে ৯৯ বছর আগে নৈহাটির বাসিন্দা জনৈক ভবেশ চক্রবর্তী ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু নবদ্বীপে রাসযাত্রা দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে মস্ত বড়ো বড়ো দেবদেবীর মূর্তি দেখে তাঁরা মনস্থির করেন পরের বছর নৈহাটিতে তাঁরাও এমন বড়ো একটি মাতৃপ্রতিমা কালীর পুজো করবেন। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। শুরু হলো চৌদ্দ হাতবিশিষ্ট বাইশ ফুট লম্বা কালীমূর্তির পুজো। প্রসঙ্গত বৈষ্ণব মতে দক্ষিণা কালীরূপে পূজিতা হন বড়মা। তাই এই পুজোতে কোনো বলিদান প্রথা নেই।

লোকমুখে প্রথমে এই পুজো ভবেশ কালী হিসেবেই পরিচিত ছিল৷ পরবর্তীকালে মূর্তিটির উচ্চতার কারণে বড়মা নামেই জনমানসে পরিচিতি লাভ করে। প্রাচীন ঐতিহ্যকে বজায় রেখে আজও পুজোর ভোগ আসে চক্রবর্তী বাড়ি থেকেই। পুজোর রাতে বড়মা-র প্রসাদে থাকে পোলাও, খিঁচুড়ি, পাঁচ রকমের ভাজা, তরকারি, লুচি, চাটনি, পায়েস৷ বিসর্জনের আগের দিন রাতে দেবীকে লাড্ডু ভোগ দেওয়ার প্রথাও অটুট রয়েছে।  

"ধর্ম যার যার, বড়মা সবার" এই বাণীকে পাথেয় করে দেখতে দেখতে প্রাক শতবর্ষে পদার্পণ করলো নৈহাটির বড়মার পুজো। প্রত্যেক বছর দীপান্বিতা অমাবস্যার তিথিতে পূজিত হন বড়মা৷ নৈহাটির সমস্ত পুজো শুরু হয় বড়মার পুজো শুরুর পর এবং নিরঞ্জনের ক্ষেত্রেও প্রথমে বড়মার নিরঞ্জন সুসম্পন্ন হওয়ার পর অন্যান্য প্রতিমা নিরঞ্জন হয়।

প্রতিবেদন- সুমিত দে


No comments