Header Ads

অঙ্কে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১ বা ২ পাওয়া এক বঙ্গসন্তান সুযোগ পেল আইআইটিতে


যে ছেলেটির অঙ্কে অষ্টম শ্রেণি অবধি এক বা দুইয়ের বেশি নম্বর পাওয়ার ক্ষমতা ছিলনা, সেই ছেলেই আজকে আইআইটি যাচ্ছে বিএসসি পড়ার জন্য! কী অবাক হচ্ছেন তো? অবাক হওয়ারই কথা, অঙ্কে এক বা দুই পাওয়া একটা ছেলের পক্ষে আইআইটি তে পড়ার সুযোগ পাওয়া কী আদৌ সম্ভব? এর একটাই উত্তর 'সম্ভব'। কারণ এটা করে দেখালো এক বঙ্গসন্তান। যে খবরে চোখ রাখলে সত্যিই অবাক হতে হয়। 


আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন নিউ শোভাগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা অয়ন মল্লিক অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অঙ্কে ১ বা ২ পেত, আর আজকে সে বম্বে আইআইটিতে অঙ্ক নিয়ে বিএসসি পড়তে যাচ্ছে। এ যেন এক বিরল প্রতিভার নিদর্শন। একেই বলে পরিবর্তন। গভীর অধ্যাবসায় ও শ্রমকে কাজে লাগালে যে-কোনো ব্যক্তিই পড়াশোনা করে সফল হতে পারে তারই বার্তা বহন করলো অয়ন মল্লিক। 
 
২০১৬ সালে অয়ন মল্লিকের বাবা জয়দেব মল্লিক মারা যান। তার বাবার মৃত্যুর পর এক আমূল পরিবর্তন আসে তার মধ্যে। তার মা আরতি সরকার মল্লিককে কষ্ট করে সংসারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। দুই ছেলেমেয়েকে তিনি মানুষ করেছেন। তাদের পড়াশোনার প্রতিও খেয়াল রাখতে শুরু করেন তিনি। সংসারের বেহাল দশা দেখে অয়ন চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। সেই চিন্তার বশে পড়াশোনার প্রতি অগাধ দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে সে। 

অয়নের অঙ্কের প্রতি ভীতি দূর করেন তার পাড়ার এক প্রাইভেট টিউটর হরিশঙ্কর দত্ত। যাকে তার পথপ্রদর্শকও বলা চলে, কারণ তিনিই তাকে অঙ্কে কাঁচা থেকে পাকা করে তুলেছেন। হরিশঙ্কর বাবুর হাত ধরে অঙ্কে আগ্রহ তৈরির মাধ্যমে তার সমস্ত বিষয়ের প্রতি আলাদা ভালোলাগা তৈরি হয়। সেই ভালোলাগা থেকেই ধীরে ধীরে সে হয়ে উঠলো একজন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। আজকে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের সে  অনুপ্রেরণাও বটে৷ 

অয়ন এতোটাই মন দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যায় যে ব্যর্থতাও তার কাছে হার মানতে শুরু করে। মাধ্যমিকে ৯১ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয় সে। দেখা যায় অঙ্কে তার স্কোর ৯৯৷ এরপর উচ্চমাধ্যমিকে সে ৯৭ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয়। অঙ্কে নম্বর পায় ৯৮। এরপরই সে আইআইটিতে পড়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছে। 

গত শুক্রবার বম্বে আইআইটি থেকে তাকে জানানো হয়, বম্বে আইআইটিতে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ইন ম্যাথম্যাটিক্সে নাম উঠে এসেছে তার৷ অয়নের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে বেশ খুশী তার মা আরতি দেবী৷ তার ছেলের সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি হওয়ার জন্য তিনি গর্বিত। তবে তার একটাই আক্ষেপ এই সাফল্য যদি তার বাবা একবার দেখে যেতে পারতেন। 

প্রতিবেদন- সুমিত দে


No comments