লকডাউনের আবহে সাসপেন্স শর্টফিল্ম উপহার দিলেন পরিচালক উত্তম সরকার
লকডাউনের আবহে সবাই বাড়িতে বসে সময় কাটাচ্ছেন। কাজেই অবসর সময়ের এখন অভাব নেই কারও। বাড়িতে বসে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন৷ বাড়ির মধ্যে সারাক্ষণ বসে সময় অতিক্রম করাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে অনেকের কাছে ৷ অস্বস্তি ভর করছে তাদের অস্থিমজ্জায়। এই অস্বস্তিকে সাময়িক বিরতি দিতে বিনোদনকেই বেছে নিচ্ছেন সকলে। ইউটিউব বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সিনেমা ও ওয়েবসিরিজ দেখার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করছেন অনেকে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো তারা নতুন কোনো কাজ দেখতে পাচ্ছেন না। একদিকে হল বন্ধ, শ্যুটিং বন্ধ। তাহলে কীভাবে তারা নতুন কাজ দেখার সুযোগ পাবে? এই ব্যাপারটাকে কাজে লাগাচ্ছেন বহু চলচ্চিত্র শিল্পীরা। বাড়িতে বসেই তারা তৈরি করছে নানাবিধ চলচ্চিত্র।
অন্যান্য পরিচালকদের মতো থেমে নেই পরিচালক উত্তম সরকারের কাজও। তিনিও নজরকাড়া প্রজেক্ট নিয়ে হাজির হচ্ছেন সকলের সামনে। ফিজিক্যাল ডিসটেন্স মেনে তিনি একটার পর একটা কাজ করছেন। কোনো টেকনিশিয়ান ছাড়াই নিজের হাতে একা সবকিছু সামলে এই লকডাউনে বাড়িতে বসে দর্শকদের একটি সাসপেন্স শর্টফিল্ম উপহার দিলেন পরিচালক উত্তম সরকার। যে ছবির নাম 'অ্যালার্ম'। এই নামটার মধ্যেই একটা অচেনা রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। তিনি অতি যত্ন সহকারে সেই রহস্যকে বুদ্ধিমত্তার সাথে উপস্থাপন করেছেন।
ছবির গল্পে আমরা দেখতে পাই একজন পুরুষ প্রচন্ড অস্বস্তি বোধ করছেন। তার কানে একটি অ্যালার্মের শব্দ উচ্চস্বরে বারবার বাজতে থাকে। তিনি কিছুতেই উপলব্ধি করতে পারছিলেন না যে শব্দের উৎসস্থলটা কোথায়? শব্দের সন্ধানে ধীর পায়ে তিনি চলতে থাকেন। কিন্তু শত চেষ্টা করেও তিনি খুঁজে পেলেন না শব্দটির উৎস। অনেককেই তিনি এ ঘটনার কথা বললেও কেউ বিশ্বাস করেননি। উল্টে তাকে পাগল বলে অবজ্ঞা করেছেন। তাই তিনি বিরক্ত হয়ে ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলেন তার একটি কান। তারপর তার পরিণতি কী হবে? এটা নিয়েই এগোতে থাকে ছবির চিত্রনাট্য।
দূর্দান্ত আবহসঙ্গীত ও ঝকঝকে সিনেমাটোগ্রাফি সহকারে লকডাউনে একটু বিনোদন উপভোগ করার জন্য যথোপযুক্ত ছবি হলো "অ্যালার্ম"। ছবিতে অনেকটাই নতুনত্ব রয়েছে। ছবির গল্প, স্ক্রিপ্ট, অভিনয় সবকিছুই সুন্দর। ছবিতে অভিনয় করা সকল কলাকুশলীদের মুখ ভঙ্গিমা বেশ সাবলীল। যথেষ্ট দক্ষতার সাথে সকলে এ ছবিতে অভিনয় করেছেন। ছবির পরিবেশ, সাজসজ্জা ও আর্ট সবকিছুই প্রশংসার দাবি রাখে। পরিচালক নিঁখুত ভাবে চেষ্টা করেছেন ছবিটি বানাতে। এমনকি তিনি সফলও হয়েছেন।
প্রতিবেদন- সুমিত দে


Post a Comment