Header Ads

জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর প্রক্রিয়া ঘিরে চলতে থাকা জটিলতা, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ধর্মীয় সন্ত্রাস নিয়ে পরিচালক দেব গোপাল মন্ডলের ছবি 'নিউ রাম চরিত' সংক্ষেপে এনআরসি



বর্তমানে ভারতের রাজনীতির প্রথম বিষয় হলো জাতীয় নাগরিক পঞ্জী বা এনআরসি। যার মধ্যে রয়েছে চরম বীভৎসতা। জাতীয় নাগরিক পঞ্জী ও তার প্রক্রিয়া ঘিরে চলতে থাকা জটিলতা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ধর্মীয় সন্ত্রাস নিয়ে পরিচালক দেব গোপাল মন্ডল নিয়ে আসতে চলেছেন নতুন বাংলা ছবি 'নিউ রাম চরিত' সংক্ষেপে এনআরসি। ছবির প্রযোজনায় মুর সালিম, কৃষেন্দু ঘোষ ও অঞ্জনা বসুর প্রোডাকশন হাউজ "গ্রন্থনা"।


এ ছবির মূল গল্প প্রধানত দুটো পরিবার ঘিরে আবর্তিত হতে থাকে। প্রথম পরিবারটি প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দিনী দাশগুপ্তের। দ্বিতীয় পরিবারটি শিক্ষক রাশেদ খানের পরিবার। নন্দিনী দাশগুপ্তের স্বামী কার্গিল যুদ্ধের শহীদ তাই তাকে রাষ্ট্র থেকে মরনোত্তর পরমবীর চক্র দেওয়া হয়। অথচ নাগরিক পঞ্জীতে তার ও তার সন্তানের নাম কেটে বাদ দেওয়া হয়৷ আবার রাশেদ খানের দাদু আজাদ হিন্দ বাহিনীতে থাকা সত্ত্বেও বাদ যায় তার নামও। এমনকি প্রতি মুহূর্তে তাকে দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে হয় একটি ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠনকে৷ 

দেশ, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ঘিরে চলতে থাকা এমন সাহসী ছবি বাংলাতে খুব কম হয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছবিটিতে অভিনয় করেছেন অঞ্জনা বসু, সত্রাজিৎ সরকার, কালিকা মজুমদার, অরিজিৎ সেন, নবাগত কৃষেন্দু ও মৃন্ময়। ছবিটির চিত্রগ্রাহক তনয় রায় ও দীপ। সম্পাদনায় উজ্জ্বল মুখার্জী। সৃজনে সিদ্ধার্থ শঙ্কর। ছবিতে ক্যানভাসের পটে আঁকা ছবি নির্মাণ করেছেন সিদ্ধার্থ শঙ্কর, শুভজিৎ মন্ডল ও নিখিলেশ মিত্র। ছবির বিশেষ উপদেষ্টা অদ্রীশ ঘোষ। 


ছবির পরিচালক দেব গোপাল মন্ডল একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত চাষী পরিবারের সন্তান। আঠারো বছর বয়সে চলচ্চিত্র করবেন বলে কোলকাতায় আসেন। গ্রিয়ারসন মুভিজের তত্ত্বাবধায়ক তিনি কাজ শুরু করেন। কাজের মধ্যে থেকে তিনি অনেক কিছুই শিখেছেন৷ বলা যেতে পারে দিলীপ কুমার রায় ও দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের কাছে প্রথম কাজ শেখা পাশাপাশি কাজের শুরুও। পরবর্তীকালে শর্মিষ্ঠা চ্যাটার্জি,  রীনা মিত্র ও উজ্জ্বল মুখার্জী এনারা তাকে এই যাত্রায় বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন। 


চলচ্চিত্র নির্মাতা দেব গোপাল মন্ডল পাঁচটি ছোটো কাহিনীচিত্র, চারটে তথ্যচিত্র মিলিয়ে মোট নয়টি ছবি নির্মাণ করেছেন। প্রতিটি ছবিই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এছাড়াও "ফিফথ স্পেস বায়োস্কোপ ২০১৭' তে তার ছবি "কাম ক্রস দ্য লাইন" দ্বিতীয় পুরষ্কার পেয়েছে। আর নিষিদ্ধ ব্রতকথা এগারোটি চলচিত্র উৎসবে স্ক্রিনিং হয়েছে। এই মুহুর্তে তার আমেরিকান দুতাবাস ও ভিডিও ভলেন্টিয়ারের উদ্যোগে "মানব প্রাচার" তথ্যচিত্রের কাজ চলছে এবং বিশ্বায়ন ও দারিদ্রতা নিয়ে  'সেই ছেলেটা' ও এন আর সি নিয়ে আরো দুটো ছবির সম্পাদনার কাজ চলছে।  

প্রতিবেদন- সুমিত দে

No comments