ভারতে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে বাংলা
বাংলার মাটি, বাংলার জল আজীবন সোনার মতোই উজ্জ্বল। বাংলার আনাচে-কানাচে শুধুই বৈচিত্র্যের সমাহার। যার কোলে সান্দাকফুর মতো বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গ থেকে শুরু করে দীঘার মন ভালো করা সমুদ্রসৈকত, পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো ব-দ্বীপ সুন্দরবন যাকে পৃথিবীর আরেক ফুসফুসও বলা যেতে পারে এমনকি বিষ্ণুপুর, মুর্শিদাবাদের মতো ঐতিহাসিক স্থান এবং বাংলার রাজধানী শহর কলকাতা যেখানে রয়েছে ভুরিভুরি দর্শনীয় স্থান আরো কত কী বিরাজমান। পশ্চিমবঙ্গ হলো ভারতের একমাত্র রাজ্য যেখানে পাহাড়, পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, নদী-নালা, খাল-বিল, সমুদ্র, অরণ্য, খনিজ সম্পদ, মন্দির-মসজিদ-গীর্জা-প্যাগোডা-গুরুদুয়ারা, অসংখ্য বন্যপ্রাণী, চিড়িয়াখানা, অভয়ারণ্য, হটস্পট, জলপ্রপাত, শৈলশহর, মেট্রোপলিটন সিটি, শিল্পতালুক, বাণিজ্যনগরী, সাংস্কৃতিক নগরী, হস্তশিল্প, কৃষিজ সম্পদ প্রায় সবকিছুই আছে। বাংলা আজীবন ভারতের অন্যান্য প্রদেশের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
বাংলা ও বাঙালির নানান বিষয় নিয়ে লিটারেসি প্যারাডাইস বারংবার অজানা তথ্য তুলে আনে। আজকের এই প্রতিবেদনে এমন একটি বিষয়ের কথা তুলে ধরছি যা পড়লে বাঙালি হিসেবে আপনার গর্বে বুক ভরে যাবে। বর্তমানে ভারতে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে বাংলা।
ভারতের আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে পছন্দের গন্তব্য হিসেবে দ্রুত উঠে এসেছে বাংলা। ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের প্রকাশিত ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কমপেন্ডিয়াম ২০২৫–এর তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের কাছে ভারতবর্ষে দ্বিতীয় সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন রাজ্য হিসেবে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে বাংলা।
২০২৩ সালের ২৭ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটকের তুলনায় ২০২৪ সালে আগত পর্যটকের সংখ্যা ১৪.৮% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখে। এতে স্পষ্ট যে, বৈশ্বিক পর্যটনে বাংলার আকর্ষণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে সফলভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে আমাদের পশ্চিমবঙ্গ।
বাংলার পর্যটন শিল্প বৃদ্ধির পিছনে রয়েছে তার বহুমুখী আকর্ষণ, যা নানান ধরনের মানুষের আগ্রহের চাহিদা পূরণ করে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদেরকে পশ্চিমবঙ্গের যে জায়গাগুলো বেশি আকর্ষণ করছে সেগুলি হলো সুন্দরবন, কলকাতার ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, দার্জিলিং-এর চা বাগান, টয় ট্রেন, টাইগার হিল ও তুষারাবৃত সান্দাকফু।
বাংলা এখন ওয়েলনেস ট্যুরিজম, ইকো-ট্যুরিজম এবং টেকসই ভ্রমণ–এ ক্রমবর্ধমান মনোযোগের জন্যও পরিচিত হয়ে উঠছে। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য, দার্জিলিং-এর মতো পাহাড়ি শহর এবং তার শান্ত সৌন্দর্য—এই সবকিছুই প্রকৃতি পর্যটন ও অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের অনুকূল সুযোগ তৈরি করে, যা ইকো-ফ্রেন্ডলি ভ্রমণের বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যটকদের বেশি করে টানার জন্য সরকার বিশেষ ভাবে জোর দিচ্ছে। যার ফলে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় মানুষজন অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, স্থানীয় কারুশিল্পী এবং হস্তশিল্পীদের পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে কারণ পর্যটন ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণকে সমর্থন করার মাধ্যমে পর্যটন খাত একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
১৪.৮% বিদেশি পর্যটক আগমনের বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে বিশ্ব পর্যটন বাজারে বাংলার প্রভাব ক্রমশ বেড়ে চলেছে। অবকাঠামো, স্থায়িত্ব এবং নতুন পর্যটন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ফলে বাংলা এখন বহু বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা প্রদানকারী অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠতে প্রস্তুত। স্থানীয় অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং সাংস্কৃতিক সংরক্ষণে রাজ্যের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করে যে বাংলা আগামী বহু বছর ধরে একটি প্রাণবন্ত এবং টেকসই পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে থেকে যাবে।
বিশ্বব্যাপী পর্যটন প্রবণতা পরিবর্তিত হতে থাকলেও, বাংলার পর্যটন শিল্প নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম থাকবে এবং সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে একটি অবশ্যই-দর্শনীয় গন্তব্য হিসেবে বাংলার পরিচিতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রতিবেদন- সুমিত দে
তথ্যসূত্র- ট্রাভেল এন্ড ট্যুর ওয়ার্ল্ড ডট কম


Post a Comment