Header Ads

বাঙালির মধ্যে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে বিজয়া দশমীর আন্তরিকতা


বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। চারদিন ব্যাপী এই উৎসবের জন্য সারা বছর ধরে বাঙালিরা অপেক্ষা করে থাকে। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর দিন সবার মুখে মুখে আনন্দের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ফুটে ওঠে। কিন্তু নবমীর রাত পেরোলেই কেমন যেন মন খারাপ হয়ে যায় বাঙালির। তবে এই মনখারাপের মধ্যেও লুকিয়ে আছে আনন্দ। বিজয়া দশমী দুঃখের দিন হলেও এটা একে অপরকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর দিন। 


বিজয়াতে বড়দের প্রণাম জানিয়ে মিষ্টিমুখ করা। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে গিয়ে তাদের বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানো। পাড়া-প্রতিবেশীদের দেখা মিললেই তাদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আরো কত কী। এসবই ছিল বাঙালির বিজয়ার এক মহান আন্তরিকতা। যা কালের স্রোতে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। বাঙালি ভুলে যাচ্ছে বিজয়ার দশমীর আন্তরিকতা।

বাঙালির হাতে স্মার্টফোন আসতেই ও হোয়াটস অ্যাপ কালচারের সাথে বাঙালি পরিচিত হতেই বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় কেবল হোয়াটস অ্যাপ ও ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের চ্যাটে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। 

শুভেচ্ছা বিনিময়ের ওয়ালপেপার ও মিষ্টির ছবি পাঠাতেই বাঙালিরা এখন বিজয়া দশমীতে প্রচণ্ড ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। বিজয়াতে পায়ে হাত দিয়ে বড়দের প্রণাম করার বাতিক হারিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ তো আবার বিজয়াতে বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে লজ্জাবোধও করছে। এক মানুষের সাথে আরেক মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে। বহু বাঙালির আবার মানবিক সৌজন্যবোধ দেখানোর যেন সময়টুকুও নেই।

ভিডিও কল করেই সকলে সেরে নিচ্ছে বিজয়ার প্রণাম। কেউ কেউ তো আবার বিজয়া দশমীর মূল্যই বোঝেন না। কারোর যেন একে ওপরের বাড়িতে যাওয়ার সময়টুকুও নেই। আধুনিকতার চক্করে পড়ে বাঙালি আজকে ভুলতে বসেছে নিজের সংস্কৃতিকে। বাঙালির ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান, শিকড়ের টান সবই ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বাঙালির কিছু মানুষ এতোটাই স্বার্থপর হয়ে উঠেছে  যে মানবিকতা কাকে বলে তারা জানেন না। বাঙালির জীবনে আজকে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। জীবন মানেই তো সমস্যা থাকবে কিন্তু তা বলে আমরা আমাদের জাতির সংস্কৃতি বা ঐতিহ্য ভুলে যাবে! এটা কখনোই হতে পারে না। 

বাঙালিকে মনে রাখতে হবে বিজয়া মানে বিজয়লাভের দিন। পুরাণ অনুযায়ী, দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে দশমীর দিন বধ করেছিলেন কাজেই দেবী দুর্গার বিজয়লাভকে উদযাপনের জন্য বিজয়া দশমী পালন করা হয়। এই দিনটা বাঙালির কাছে আবেগের দিন। বাঙালি যেভাবে বিজয়া উদযাপন করতো আগে সেভাবে এখনও আমাদের বিজয়া উদযাপন করতে হবে৷ বিজয়া দশমীর আন্তরিকতা বাঙালিকে আবারো ফিরিয়ে আনতে হবে। 

প্রতিবেদন- সুমিত দে


No comments